শাবিপ্রবি'র শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে আমার ভাবনা।
যেখানে সংখ্যা বেশী তুমি যদি সেই ভীড়ে থাকো তাহলেই তুমি সত্য, ন্যায় ও
সুন্দরের পুজারী। তুমি হবে মানুষ থেকে উঁচু
স্তরে দেবতা-ফেরেস্তা গোছের কিছু একটা। এই চর্চা বিগত ২ দশক ধরে প্রকটভাবে চর্চিত হচ্ছে,
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও তার ব্যতিক্রম নয়। দলীয় করন, আত্মীয়করন শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধবংসের
দাঁড় প্রান্তে নিয়ে গেছে। এই সকল অনিয়ম দূনীর্তির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা আজ ও পর্যন্ত এক জোট হয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে ফেটে পড়ছে
না আমৃত্যু অনশন সেতো সুদূর পরাহত। বলছিলাম শাবিপ্রবি বর্তমান বিরাজমান অরাজকতা ও অচল
পরিস্থিতি নিয়ে। দূর থেকে অছাত্র, সাধারণ জনগন কিংবা অভিভাবক হিসেবে আমি আমার পক্ষালম্বন
করছি এবং সেটা কিন্তু গুরুত্বপুর্ণ। মিডিয়ার মাধ্যেম যতটুকু জেনেছি ঘটনার সূত্রপাত
কোন এক নারী হলে প্রাধ্যক্ষ, জাফরিন আহমেদ ছাত্রীদের সাথে অসদাচরন করেছেন। যদিও এই
অসদাচরণে আসলে ঠিক কি কি হয়েছিল তার বিস্তারিত জানা যায়নি। যতটুকু জানতে পেরেছি এই
আবাসিক হলে রাতে এক শিক্ষার্থী মোবাইল ফোনে কথা বলছিল তখন প্রাধ্যক্ষা জাফরিন আহমেদ
আর সহকারী প্রাধ্যক্ষ রাবেয়া তোড়া ঐ মেয়েটির সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। এতেই নাকি হলের
৩০০ ছাত্রীরা ক্ষেপে যায়,আন্দোলন শুরু করে এবং ছাত্রলীগ মুরুব্বী সংগঠন হিসেবে সেখানে
নাক গলায় আন্দোলনে বাধা দেয়। ফলশ্রুতিতে ছাত্র ছাত্রীদের দাবী ছিল ঐ প্রাধ্যক্ষদ্বয়ের
পদত্যাগ করতে হবে এবং তারা একটা সময় বেঁধেও দেয়। মোটামুটি এটাই ছিল মুল ঘটনা।
প্রশাসনিক কোন সিদ্বান্ত হুট করে দেয়া যায় না। এমন নজির পৃথিবী কোথাও
নেই। প্রাধ্যক্ষদ্বয় যদি কোন অপরাধ করে থাকেন তাহলে সেটা অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণিত
হতে হবে। তদন্ত চলা কালিন কাউকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে রাখা যেতে পারে। আর তদন্ত প্রক্রিয়া
কিছুটা সময় সাপেক্ষ। কিন্তু ছাত্রছাত্রীরা তাদের ডেডলাইন দিয়ে দিয়েছে। ব্যাপারটা এই
রকম তদন্ত যাই হোক না কেন বাই ডিফল্ট ঐ দুজনকেই অপরাধী বানাতেই হবে। যদি কোন ভাবে প্রমাণিত
হয় দোষটা আসলে ঐ ছাত্রীর ছিল তাতেও তারা মেনে নেবে না। এখন এই রকম অধৈর্য্যশীল ভবিষ্যত
প্রজন্মের কাছে আমরা কি আশা করবো। এরাই ভবিষ্যতে সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন
মুরুব্বীয়ানার পদে চাকরী করবে আর নির্লজ্জের
মত হাতখানা পেতে দেবে। এমনটাইতো দেখছি। পরবর্তীতে যত ঘটনা ঘটেছে ভিসির অফিস ঘেরাও,
ভিসির আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ দিয়ে পুলিসিং কিংবা পুলিশ বাহিনীকে পুলিশিং করতে উসকে
দেয়া সব কিছুই হয়েছে ছাত্রছাত্রীদের অধৈর্য্যর কারনে। এখনো তাই করছে যেকোন ভাবেই তারা
ভিসির পদত্যাগ চায়। তদন্ত এখানে কোন বিষয় নয়।
পরিশেষে আরেকটা জিনিস আমার চোখে পড়েছে। পুরো আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে ৫-৬টা বাম ছাত্র সংগঠন। তার মানে ৬-৭ হাজার ছাত্রছাত্রীর মধ্যে মাত্র এক দেড় হাজার ছাত্রছাত্রী আন্দোলনের মাঠে নেমেছে। আর হাজার ছাত্রছাত্রীর মধ্যে বাম ছাত্র সংগঠনের সক্রিয় কর্মী হবে ৭০০-৮০০ এর মত। কমও হতে পারে। কারন শ্লোগান দেয়ার যে ধরন দেখলাম তাতে আরও নিশ্চিত হলাম এরা কোন না কোন সংগঠনের সাথে যুক্ত।সাধারণ মানুষ শ্লোগান দিয়ে অভ্যস্ত নয়। আসলে ডান বাম যাই বলি না কেন কেউই গঠনমূলক কাজের কোন আন্দোলন করে না। যদি দেখতাম তারা আন্দোলনে করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাসিলিটিস বাড়ানোর জন্য,আরও বেশী বেশী গবেষণার জন্য সুযোগ সুবিধা ও বাজেট চাচ্ছে কিংবা ক্যাম্পাসকে মাদক মুক্ত রাখতে চাচ্ছে বা শিক্ষক নিয়োগের কোন দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাহলে এই ছাত্র সমাজ নিয়ে বেশ আশাবাদী হতাম। এসব ব্যাপারে তাদের তেমন কোন আগ্রহও নেই। পুরো আন্দোলনটা হচ্ছে তাদের ইগো স্যাটিস্ফাই করার জন্য।শেষে এটাই বলবো আমি ছাত্রছাত্রীর পক্ষেও না আবার ভিসির পক্ষেও না আমি আমার পক্ষে।

Comments
Post a Comment